আজ || মঙ্গলবার, ০৯ Jun ২০২৬
 


মধুপুর বনাঞ্চলের বানর হনুমান খাদ্যাভাবে দিকবিদিগ হয়ে বিপন্ন

অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন : কলার লোভে ওরা চারজন মহাজনের ট্রাকে চড়ে বসেছিল। ক্ষুধার তীব্রতায় আধাপাঁকা কলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় শাখা মৃগরা টেরই পায়নি কখন চালক মধুপুর বনাঞ্চলের দোখলা রেঞ্জের ভুটিয়া বাজার ছেড়ে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে উঠেছে। মধুপুর উপজেলা সদর হয়ে ট্রাক ছুটলো গোপালপুর উপজেলা সড়ক ধরে। টানা ২৬ মাইল পাড়ি দিয়ে থামলো যমুনা নদীর নলিন ঘাটে। ট্রাকের কলা এখান থেকেই নৌকায় চালান যায় সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে। ড্রাইভিং আসন ছেড়ে ট্রাক থেকে নেমেই চালক সিরাজ হাঁক ছাড়লো কুলির জন্য। ছুটে এলো দুই লেবার। ট্রাকের হেলপার তাদের নিয়ে উঠলো ট্রাকে। ত্রিপল সরাতেই সমস্বরে চিৎকার দিল, ‘ওস্তাত বানর ভেংচি দিচ্ছে।’ বলা শেষ না হতেই দৌড়ে এলো চালক সিরাজ, মহাজন আারিফ আর বাজারের কয়েক দোকানদার। তাদের হাতে দোকানের ঝাঁপের লাঠি। বিপদ আঁচ করে কলা খেঁকোরা চোখের পলকে ট্রাক ছেড়ে লাফিয়ে উঠলো বট গাছে। ছিল হাটবার। শতদর্শকের ভিড়ে বিরক্তিবোধ করলো বানরকূল। দল বেঁেধ বাজার ছেড়ে ঢুকলো গ্রামে। নলিন থেকে শাখারিয়া, নারুচি, ভোলারপাড়া কুমুল্লী হয়ে বীরনলহরা। গ্রাম থেকে গ্রাম। যেখানেই গমন বালকের দল তাড়া করে ফেরে। ইটপাটকেল আর ঢিলে দুই দিনের ব্যবধানে দলনেতা ছাড়া সবাই অক্কা পেলো। নলহরা গ্রামে আমগাছের মগডালে আশ্রয় নেয় বুড়ো বানরটি। গ্রামের লোকজনের ক্রমাগত ঢিলে প্রাণ ওষ্ঠাগত তার। এক পর্যায়ে কাতর হয়ে দু‘পা তুলে করুনা ভিক্ষা করে বানরটি। দৃশ্যটি বয়স্কদের মধ্যে অনুশোচনার সৃষ্টি করে। বলে কয়ে ছেলেছোকরাদের থামায়। খবর দেয়া হয় মধুপুর বনবিভাগকে। বনকর্মীরা পৌঁছার আগেই বৈরান নদীর তীর খুঁড়িয়ে বীরনলহরা থেকে ভূঞাপুরের দিকে যাবার পথে আরেক দল দুষ্ট বালকের প্রহারে প্রাণ হারায় বানরটি।

বর্ণনার ঘটনাটি কোনো গল্প নয়। গত শুক্রবারের ঘটনা এটি। মধুপুর বনাঞ্চলের দশ হাজার একর গজারি বনে এখনো দশ হাজার বানরহনুমান রয়েছে। রয়েছে কয়েক শতাধিক হরিন, বাগডাস, বনমুরগী ও খরগোশ। খাদ্যের উৎস প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের চিরচেনা গাছপালা নিঃশেষ, বিদেশি গাছের বনায়ন, উজাড় বনভূমিতে কলার বানিজ্যিক আবাদ এবং ক্রমাগত খাদ্য সংশয়ে নিরাপত্তাহীন বণ্য প্রাণীরা। লোকালয় আরো বিপজ্জনক। খাবার, বাসস্থান, প্রজনণস্থল ক্রমান্বয়ে সঙ্কুচিত হওয়ায় প্রাণ বাঁচাতে লোকালয়ে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ হারায়।

এ ব্যাপারে মধুপুর বনাঞ্চলের সহকারি বন সংরক্ষক আবুল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শীতে খাবার সংকট থাকায় বানর ও হনুমান কলার ট্রাকে চড়ে দেশের নানাস্থানে হিজরত করছে। প্রাণ হারাচ্ছে। খবর পেলে বন বিভাগ উদ্ধার করে নিয়ে আসছে। তবে মধুপুরে নতুন কোনো বন উজাড় হয়নি।

প্রতিবেদক : সভাপতি- গোপালপুর প্রেসক্লাব, সম্পাদক- গোপালপুর বার্তা।

মন্তব্য করুন -


Top
error: Content is protected !!